1. jakariaalfaj@gmail.com : admin2020 :
বুধবার, ০৫ মে ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

সৈকতে আবার ভেসে এল মরা তিমি

টেকনাফ ভয়েস ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি সৈকতে আজ রোববার বিকেলে আবার ভেসে এসেছে একটি মরা তিমি। ২২ ফুট লম্বা ও আনুমানিক তিন টন ওজনের তিমিটি ২০-২৫ দিন আগে গভীর সাগরে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৯ ও ১০ এপ্রিল হিমছড়ি সৈকতে ভেসে এসেছিল ১৫ ও ১০ টন ওজনের দুটি মৃত তিমি। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তিমি দুটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও আজ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়নি বলে জানা গেছে।

সৈকতে আরেকটি মরা তিমি ভেসে আসার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, এটি আকারে আগের দুটির তুলনায় অনেক ছোট। তিমির মাথা ও লেজের অংশ পচে-গলে বিকৃত হয়ে গেছে। মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল তিমিটি, তাই সেটিকে বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০-২৫ দিন আগে তিমিটি গভীর সাগরে মারা গেছে। জোয়ারে ভেসে আসতে এত দিন লেগেছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন, বেলা তিনটার জোয়ারে তিমিটি ভেসে আসে হিমছড়ি সৈকতে। তিমিটি লম্বায় ২২ ফুট, পেটের বেড় ১১ ফুট।
মৎস্যবিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাদের ধারণা, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জাহাজের ধাক্কায় অথবা প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে তিমিটির মৃত্যু হতে পারে।
পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে দুটি বিশাল তিমি এভাবে সৈকতে ভেসে এসেছিল। কিন্তু কোনোটির তদন্ত হয়নি। গত ৯ ও ১০ এপ্রিল আবার বিশাল দুটো মৃত তিমি সৈকতে ভেসে এলেও মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি। বারবার কেন হিমছড়ি সৈকতে তিমির মরদেহ ভেসে আসছে, এর রহস্য উদ্‌ঘাটন দরকার

এর আগে ভেসে আসা দুটি তিমির মৃত্যুরহস্য উদ্‌ঘাটনে গত ৯ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট মো. আমিন আল পারভেজকে প্রধান করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, পরীক্ষার জন্য আগে ভেসে আসা মৃত তিমি দুটোর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে লকডাউনের কারণে পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো যায়নি।

আগে ভেসে আসা তিমি দুটি Bryde’s Whale অথবা ‘বলিন’ প্রজাতির বলে দাবি করেন কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণে তাঁর মনে হয়েছে, মৃত তিমি দুটোর প্রথমটি নারী, দ্বিতীয়টি পুরুষ জাতের। ধারণা করা হচ্ছে, সৈকতে ভেসে আসার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে সমুদ্রে বড় কোনো জাহাজের ধাক্কায় পুরুষ তিমির মৃত্যু হয়েছিল। কারণ, তিমিটির পিঠে আঘাতে দাগ ছিল। পুরুষ সঙ্গীর শোকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে নারী তিমিটি। কারণ, নারী তিমির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তিমির আত্মহত্যার নজির আছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 teknafvoice
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com