1. jakariaalfaj@gmail.com : admin2020 :
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১২:৩২ অপরাহ্ন

সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব আয়-ব্যয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

টেকনাফ ভয়েস ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ব্যাংক-বীমা, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন খাতের এসব প্রতিষ্ঠানকে বছরের পর বছর অর্থ দিতে হবে-এটা আর চলবেনা। সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজি দিয়েছে। ব্যবস্থাপনার অন্যান্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন তাদের দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন থেকে সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব আয়-ব্যয়ে চলতে হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হন তিনি। শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনান্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে অনলাইনে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনেকেশন কোম্পানি লিমিটেড ( বিটিসিএল) প্রসঙ্গে সরকারি সব কোম্পানির জন্য নিজস্ব-আয়ে ব্যয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে টেলিযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে এডিপির অধীনে অর্থ বরাদ্দ প্রসঙ্গে ওই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, কত দিন এভাবে ক্ষতিপূরণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিটিসিএলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা নিজস্ব ব্যয়ে নির্বাহের সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আপতত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে শক্তিশালী টেলিনেটওয়ার্ক না থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারী নিরুৎসাহিত হয়। শেষ পর্যন্ত সামান্য সুদে প্রকল্পটির জন্য ৯৫ কোটি ১২ লাখ টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

বাজেট উপলক্ষে প্রকাশিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমুহের সংক্ষিপ্তাসারে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৯টি অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্প, বিদ্যুত, গ্যাস, জ্বালানি, পরিবহন ও যোগাযোগ, বাণিজ্য, কৃষি ও মৎস, নির্মাণ ও সেবা খাতের এসব খাতের অধীনে শতাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই প্রকাশনায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু মুনাফায় চলছে। কিছু চলছে লোকসানে। ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত লোকসনের পরিমাণ দুই হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।

সরকারি কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর অন্য নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে খাল খননে দুর্নীতি। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সাধারণত, এ ধরনের প্রকল্পে খালের উপরিভাগে কোন রকম খননের মাধ্যমে দায় সারা হয়। এ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরেও এসেছে। এসব অনিয়ম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে এবং তার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে ( আইএমইডি) এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলপা পর্যায়ে নির্মিতব্য স্টেডিয়ামগুলো যাতে সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে সে বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে করোনার ভারতীয় টিকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনান্ত্রী বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা প্রদানে চুক্তি থেকে সরে আসার আইনি সুযোগ নেই ভারতের। তবে টিকা প্রদানে ভারতের নিজেরই সক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

দুই মাস পর মঙ্গলবার একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সর্বশেষ গত ৬ মার্চ একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা সংক্রমন বেড়ে চলা, হাতে নুতন প্রকল্প কম আসাসহ বিভিন্ন কারণে এই প্রথম এত দিন পর একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

মঙ্গলবার একনেকে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯টি নতুন এবং একটি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্পে ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। ১১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই অর্থে ৯৯১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব।প্রায় তিন হাজার কোটি বিদেশি ঋণ। এছাড়া বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর ৮০৯ কোটি টাকার অংশগ্রহণ আছে।

বৈঠকে পরিকল্পনামমন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি’র মুখ্য সমন্বয়ক; পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যগণ এবং সংশ্নিস্ট সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একনেক কার্যক্রমে অংশ নেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প। সাইনবোর্ড-মোড়েলগঞ্জ-রায়েন্দা-শরণখোলা-বগী সড়কের পানগুচি নদীর ওপর পানগুচি সেতু নির্মাণ,উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম (২য় পর্যায়) নির্মাণ, প্রকল্প; গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। রাঙ্গামাটি জেলার কারিগর পাড়া থেকে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজ,কালভার্ট নির্মাণ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প। তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (খুলনা বিভাগ) প্রকল্প।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 teknafvoice
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com