1. jakariaalfaj@gmail.com : admin2020 :
সোমবার, ০৭ জুন ২০২১, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং :

রমজানে আত্মশুদ্ধির সুযোগ

টেকনাফ ভয়েস ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে মাহে রমজানে রোজা পালন করা। আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের বার্তা নিয়ে মাহে রমজান আমাদের মাঝে উপস্থিত। এটি এমন এক মাস, যাতে প্রত্যেক মুসলিম নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ লাভ করে। রহমত, বরকত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে মাহে রমজান। বিশ্ব মুসলিমকে শিক্ষা দেয় সংযত ও সুন্দর জীবনযাপনের।

রমজান মাসে মহান আলল্গাহ তায়ালা তার বান্দাদের ওপর এত বেশি উদার হয়ে যান যে, তাদের যাবতীয় নেক আমল কবুল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকে সহজেই মঞ্জুর করেন। মুসলিম নর-নারীর কাছে রোজার মাস বহু কাঙ্ক্ষিত। এ মাসে অবিচ্ছিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেকে বিরত রাখতে হবে সব ধরনের মিথ্যা এবং অন্যায়-অপকর্ম থেকে। রমজান আমাদের সংযমী হওয়ার এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথকে সহজ করে দেয়।

রোজা ফরজ করা হয় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে। এ সম্পর্কে মহান আলল্গাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩-তে এরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমরা আলল্গাহভীরু হতে পার, পরহেজগার হতে পার।

এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য, গুনাহ বর্জন করে আলল্গাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং সর্বোপরি নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য।

মানবতার মুক্তির সনদ আল কোরআন এ মাসে নাজিল করা হয়। তাই এ মাসের পবিত্রতা, মাহাত্ম্য ও মহিমা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। আলল্গাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ আয়াতে এরশাদ করেন-

‘রমজান এমন এক মহিমাময় ও গৌরবামন্বিত মাস, যে মাসে কালামে পাক কোরআন শরিফ নাজিল হয়েছে।’

পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের অশেষ কল্যাণ। মহান আল্লাহ এই মাসের প্রতিটি দিন ও মুহূর্তকে নির্ধারিত করে দিয়েছেন সংযম সাধনার জন্য। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ফরজ করেছেন। এর পাশাপাশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে জাগতিক সব বিষয়ে সংযত জীবনাচারের। নির্দেশনা রয়েছে সব ধরনের পাপ ও অন্যায়-অপকর্ম থেকে দূরে থাকার। রোজার মাসে কথায় ও কাজে মিতাচারী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। রমজান মাসের এটাই শিক্ষা, এটাই বিধান।

রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষের মনের কলুষ-কালিমা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়ে মনকে নির্মল ও পবিত্র করে তোলে, পাপরাশিকে সম্পূর্ণ রূপে দগ্ধ করে মানুষকে করে তোলে খাঁটি ও পুণ্যবান।

রমজানের রোজার মাধ্যমে সংযম সাধনার ফলে মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় মহান আল্লার নৈকট্য লাভ করার। কারণ, রমজানের ‘রোজা’ মানুষের মনের পাপপ্রবণতাকে সংযত করে, অসহায়-দরিদ্র ক্ষুধার্তদের কষ্ট ও যন্ত্রণা, ব্যথা ও বেদনা হৃদয় স্পর্শ করতে সাহায্য করে, মানুষকে শিক্ষা দেয় ধৈর্য।

রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেছেন, রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)। রোজাদারের খুশির বিষয় দুটি- যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারি শরিফ )।

আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু রোজাদার ব্যক্তিকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন। আর এটা এ মাসের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরিয়তের কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযি, আবু দাউদ)। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে খাঁটি মুসলমান হওয়ার তৌফিক দান করুন।

বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 teknafvoice
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com