1. jakariaalfaj@gmail.com : admin2020 :
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ন

মিয়ানমারের পশু আমদানি বন্ধ, বাড়ছে দাম

টেকনাফ ভয়েস ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আবুল আলী **

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে পশু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় বাড়ছে গরুর দাম। যে গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা ছিল, সেটি এখন লাখ টাকার উপরে। কোরবানি সামনে রেখে এর প্রভাব পড়তে পারে কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামেও।

এসব এলাকায় যে হারে গবাদিপশুর দাম বাড়ছে, তাতে অনেকেই কোরবানি নিয়ে সংকটে পড়ে গেছেন। এমন সংকটের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের একমাত্র মিয়ানমার কেন্দ্রিক করিডোর ব্যবসায়ীসহ পশু ক্রেতারা।

দেশের খামারিদের লোকসানের কথা চিন্তা করে শুক্রবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র করিডোর টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। এর পরপরই উখিয়া-টেকনাফ তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কোরবানির পশু সংকটের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি হাটবাজারে দুই-তিন গুণ দাম বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরের আমদানিকারক সমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির জানান, হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ হওয়ায় এ অঞ্চলে সংকট দেখা দিয়েছে। হাটবাজারে হু হু করে বাড়ছে পশুর দাম। এ সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী বলেন, দেশের খামারিদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণকে মাথায় রেখে সরকারের নির্দেশে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য হাটবাজারগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

কক্সবাজারে ১১ লাখ রোহিঙ্গাসহ ৩৫ লাখ মানুষের বসতি। অধিকাংশ মানুষের কোরবানি কেমন হবে, তা নির্ভর করে মিয়ানমার থেকে আসা গবাদিপশুর ওপর। দেশটি থেকে গবাদিপশু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাটবাজারে পশুর দাম দুই-তিন গুণ বেড়েছে; অঞ্চলটির প্রায় ১০ হাজার মানুষ কোরবানির পশু নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন।

সর্বশেষ চলতি মাসে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনে মিয়ানমার থেকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে গরু-মহিষ এসেছে তিন হাজার ১৩০টি। এর বিপরীতে সরকার ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছে। এর আগে গত মে ও জুনে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও চার হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি হয়। তখন আমদানি বাবদ এক কোটি ৫০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করে শুল্ক বিভাগ।

সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি জানান, মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ায় তার অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ কোরবানির পশু নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন। এর ওপর এখানে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসতি। পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে খামারিদের সংখ্যাও কম। গবাদিপশু ব্যবসায়ী আবু ছৈয়দ জানান, মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ হওয়ায় বাজারে সংকট চলছে। বাজারগুলোতে গরু-মহিষের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে এক মণ গরুর মাংস ৩০ হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

তবে দীর্ঘ ধরে অবৈধভাবে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গবাদি পশু আসছিল, সেগুলো শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে প্রতি গরু-মহিষ থেকে ৫০০ টাকা ভ্যাট আদায় করে বৈধ করা হতো। পরে সেগুলো বাজারে কেনা-বেচা হয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 teknafvoice
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com