1. jakariaalfaj@gmail.com : admin2020 :
সোমবার, ০৭ জুন ২০২১, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং :

বাবুনগরী-মামুনুলসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি

টেকনাফ ভয়েস ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসের অপরাধে অবিলম্বে জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হকসহ হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, হেফাজতের মতো জঙ্গি-সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যে কোনো ধরনের সমঝোতা শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্য আত্মঘাতী হবে না। বরং দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যা বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত চক্রের মূল উদ্দেশ্য।

শুক্রবার ‘জামায়াত-হেফাজত চক্রের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা : সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সমাজকর্মী রাশেক রহমান, ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ওয়ান বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক রাশেদুল হাসান, টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম তুরস্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক শাকিল রেজা ইফতি, গৌরব ‘৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এম শাহীন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়াত ও হেফাজতকে পৃথক দল কিংবা পরস্পরবিরোধী মনে করার কোনো কারণ নেই। সম্প্রতি তারা মানুষের ওপর হামলাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রশাসন মাঠপর্যায়ের হেফাজত কর্মীদের গ্রেপ্তার করলেও মামুনুল, বাবুনগরীর মতো মৌলবাদী সন্ত্রাসের গডফাদারদের এখন পর্যন্ত কেন গ্রেপ্তার করছে না এটা আমাদের বোধগম্যের বাইরে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের নমনীয়তা, কালক্ষেপণ কিংবা দ্বিধা দেশ ও জাতির জন্য সমূহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, হেফাজতে ইসলাম যে জামায়াতের মতো একই ধারায় ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায় তা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজতের তাণ্ডব ও কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত পরিস্কার। তাদের উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা ও বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করা। যারা জাতীয় সংগীত মানে না, জাতির পিতাকে মানে না, সংবিধান মানে না- তাদের ছাড় দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

রাশেদ খান মেনন বলেন, হেফাজতের বর্তমান কমিটির অধিকাংশ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে তালেবানি অভ্যুত্থান ঘটানো। বিএনপি তাদের মৌন সমর্থন দিয়েছে। এসব বিষয়ে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সন্ত্রাসের দায়ে বাবুনগরী, মামুনুলসহ সব নেতাকে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে। সকল মাদ্রাসাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সকল মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধ করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ দূর করতে হবে।

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, হেফাজতে ইসলাম এ দেশের ভালো ও শক্তিশালী সবকিছুরই বিরোধিতা করে। পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ রোধ করতে আমরা যেসব সুপারিশ করেছিলাম সেগুলোর অধিকাংশই সরকার গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 teknafvoice
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com